ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ, ঢাকা: আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চালু হলো লোকাল ট্রেন সার্ভিস। এখন থেকে এই ট্রেন সার্ভিসের মাধ্যমে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী ১২টি স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজারে ভ্রমণ করতে পারছেন। তবে এই ট্রেনে ভ্রমণের সময় অন্য দুটি ট্রেন থেকে একটু বেশি লাগছে।
মহানগর এক্সপ্রেস গত রোববার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। গতকাল সোমবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি কক্সবাজারে পৌঁছায়। যেখানে অন্য দুটি ট্রেন ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যেতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা, সেখানে এই ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছাতে সময় লাগছে প্রায় ১১ ঘণ্টা।
ঢাকা-কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৪৬০ কিলোমিটার। এই পথে আগে থেকে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’ নামের দুটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেন সার্ভিসসহ এখন থেকে তিন ট্রেন ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের চলাচল করছে বলে রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান।
গত সোমবার রাতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত রুটে যাত্রার উদ্বোধন করেন সড়ক ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, ‘স্থানীয় যাত্রীদের কক্সবাজার ভ্রমণের সুবিধার্থে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ট্রেনের আগের যাত্রাবিরতি ঠিক থাকবে। তবে শুধু সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনের যাত্রাবিরতি বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে মোট ১২ স্টেশনে যাত্রা বিরতি এই ট্রেন সার্ভিসে।’ এই ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানী থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাত্রীদের ভ্রমণ আরও সহজ করতে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাতায়াত কক্সবাজার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’ নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। বিরতিহীন এই সার্ভিস দুটিতে কেবল চট্টগ্রাম ও বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি হয়। তবে নতুন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ সার্ভিসে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে অন্তত ১২টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করছে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ সার্ভিসটি প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা এবং পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু প্রথমদিনেই ৫০ মিনিট দেরিতে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে পৌঁছায়।
অপরদিকে ফিরতি পথে কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। তবে ট্রেনটি প্রতি রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিন বন্ধ থাকবে। ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিতে মোট ১৬টি কোচ থাকবে এবং মোট আসন সংখ্যা ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৩৬টিতে উন্নীত করা হয়েছে রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান।
ভাড়ার তালিকা ও সিট ক্যাটাগরি
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিটের ধরন ও রুট অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া (শোভন চেয়ার) ৬৮৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া (এসি ক্যাটাগরি) ১ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত। তবে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম অংশের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া ২৪০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ৫৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে থামবে। তবে বর্ধিত এই নতুন রুটে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালুর ফলে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদীর অধিবাসীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি কক্সবাজারের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ট্যুরিজম খাতে আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক মো. জয়নাল আবেদীন জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ‘মহানগর সার্ভিস’ চালু করেছে। পাশাপাশি আগের মতোই ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’ এই রুটে নিয়মিত চলাচল করবে।’ সোমবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছায় মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি। প্রথমদিন ৫০ মিনিট দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি।