জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যা: ১০ বছর পর চার জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে পরিকল্পিত হামলা ও নৃশংস হত্যা — মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২০১৬ সালের সেই আলোচিত হত্যা মামলার রায় অবশেষে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রায় এক দশক পর আলোচিত এই মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে তখন ছিল কড়া নিরাপত্তা।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি গ্রামে জমির সীমানা ও আইল নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ওই বছরের একটি দিনে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, মামলাটি বিভিন্ন কারণে দীর্ঘায়িত হয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক শেষে অবশেষে ১০ বছর পর আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

এই মামলায় মোট আসামি ছিলেন ১৩ জন। বিচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ৩ জন আসামির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রায় ঘোষণা করা হয় বাকি ১০ জনের।

এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে আরও ২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করেছি। বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে একটি বার্তা গেছে যে, জমির বিরোধে মানুষ খুন করে কেউ পার পাবে না।

অন্যদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা ১০ বছর ধরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছি। আমাদের ভাই/বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন। আমরা চাই দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক।

—জা.অর্থনীতি/এনজে