প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে বজ্রপাত। গত কয়েকদিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি মানুষ। প্রতিবছর খোলা মাঠে কাজ করতে গিয়ে কিংবা মাছ ধরতে গিয়ে ৩ শতাধিক মানুষ এভাবে অকালে প্রাণ হারান। আবহাওয়াবিদ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মতে, সঠিক সচেতনতা এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা ও দোয়া পাঠই পারে এই বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই মানুষের মনে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। কিন্তু একজন মুমিনের কাছে এটি শুধু ভয় নয়, বরং আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মেঘের এই গর্জন মহান আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) যখনই বজ্রের আওয়াজ শুনতেন, সব কথা বন্ধ করে আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতেন এবং একে পৃথিবীবাসীর জন্য এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করতেন।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে এবং আল্লাহর মহিমা স্মরণে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া বা তাসবিহ শিক্ষা দিয়েছেন। দোয়াটি হলো:
سبحانالَّذييُسَبِّحُالرَّعْدُبِحَمْدِهِوَالْمَلَائِكَةُمِنْخِيفَتِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি।
অর্থ: তিনি মহাপবিত্র, বজ্র যার প্রশংসা করে তাসবিহ পাঠ করে এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে তাসবিহ পাঠ করে। (আল-আদাবুল মুফরাদ: ৫৫৬)
প্রাকৃতিক দুর্যোগ দমনে আমাদের হাত নেই, তবে সঠিক সময়ে সতর্ক হওয়া আমাদের দায়িত্ব। ইসলামের শিক্ষা ও আধুনিক বিজ্ঞানের পরামর্শ মেনে চললে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আসমানি গজব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
জা. অর্থনীতি/ উমর