প্রবাসীদের বুকে এই হাহাকার কেন?
ছবি: সংগৃহীত

মেডিকেল সায়েন্স বলে, একজন মানুষ সর্বোচ্চ ৪৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যথা সহ্য করতে পারে। অথচ আমাদের কোটি প্রবাসী ভাইয়েরা বুকের ভেতর যে একাকীত্ব আর কষ্টের পাহাড় চেপে রাখেন, তার পরিমাপ করার কোনো যন্ত্র আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি! আচ্ছা, কখনো ভেবে দেখেছেন—সবার যখন ঈদের আনন্দ শুরু হয়, ঠিক তখন প্রবাসীদের বুকে কেন এক নীরব হাহাকার নেমে আসে?

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন:  https://youtu.be/6BBQpEX1FBI?si=ddgnGnUcONwvi8C0

স্বদেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করার আনন্দ আকাশছোঁয়া। কিন্তু এই পৃথিবীর বুকেই এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের ঈদের গল্পটা একদম ভিন্ন, ভীষণ নিরানন্দের। তারা আমাদের প্রিয় প্রবাসী ভাই। মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান আর চেনা পরিবেশ ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরে এক যান্ত্রিক জীবনে কাটে তাদের প্রতিটি উৎসব।

একজন মা যেমন প্রসববেদনার কষ্ট একা সহ্য করেন, ঠিক তেমনি একজন প্রবাসীর পরবাসের একাকীত্বের কষ্ট অন্য কেউ কখনো অনুধাবন করতে পারে না। দেশে বসে প্রবাস জীবনের সুন্দর গল্প সাজানো সহজ, কিন্তু তাদের ভেতরের নীল কষ্ট ছোঁয়া অসম্ভব। ভবিষ্যৎ জীবন একটু উজ্জ্বল করার আশায় তারা নিজের জীবনের সব রঙিন দিনগুলোকে বিদেশের মাটিতে কবর দিয়ে দেন।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে দূর কোরিয়া—দেশভেদে বদলে যায় তাদের ঈদের দিনটি। অনেক দেশে তো ঈদের দিন সাধারণ একটা ছুটির দেখাও মেলে না। বহু প্রবাসী ভাই আছেন, যারা ঈদের সকালে ডিউটিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে নামাজটুকু পড়েন। চোখের কোণে জমে থাকা জল আড়াল করে, মুখে এক চিলতে কৃত্রিম হাসি নিয়ে ভিডিও কলে বলেন—আমি ভালো আছি।

ঝিনুক যেমন নীরবে কষ্ট সহ্য করে নিজের ভেতরে মুক্তা ফলায়, আমাদের প্রবাসীরাও তেমনি সব কষ্ট বুকে চেপে রেখে হাসিমুখে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। নিজেরা হয়তো ঈদের দিন একটা ভালো পোশাকও কেনেন না, কিন্তু ঠিক সময়ে পরিবারের কাছে ঈদের খরচ পৌঁছে দেন।

আসলে, প্রবাসীদের কোনো নিজস্ব ঈদ নেই। ঈদে যখন দেশের বাড়িতে থাকা তাঁদের মা-বাবা কিংবা সন্তানের মুখে চওড়া হাসি ফোটে, ঠিক তখনই সার্থক হয় প্রবাসীর ঈদ। পরিবারের সেই হাসিটুকুর মাঝেই তাঁরা খুঁজে নেন নিজেদের ঈদের আনন্দ।

সালাম জানাই দেশের অর্থনীতির সেইসব আসল বীরদের, যারা নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে কোটি পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছেন অবিরত।

জা. অর্থনীতি/ উমর