আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা নির্বাচনে নাটকীয় জয় পেয়েছেন। কট্টর ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি ঐতিহাসিকভাবে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসছেন। তবে বামপন্থি নেতা লুলার অপ্রত্যাশিত পুনর্নির্বাচনের পর দেশটির অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। এর জেরে ব্রাজিলের আর্থিক বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর একদিনে ৮ শতাংশ কমেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ দৈনিক পতন। একই সময়ে দেশটির প্রধান শেয়ারবাজার সূচক বোভেসপা ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ হারিয়েছে। ফলে বাজেট ব্যয় কমানোর চাপে পড়েছেন তিনি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের জিডিপির ৯ দশমিক ৫ শতাংশের সমান রাজস্ব ঘাটতি এবং উচ্চ ঋণের কারণে দেশটিতে সুদের হার বেশি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপকরা।
শেয়ারবাজারে ধসের পেছনে লুলার পুনর্নির্বাচনের পর ব্যবসাবান্ধব প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রশাসন ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের নেওয়া অবস্থান থেকে সরে আসার বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে। তবে নির্বাচনি প্রচারে লুলার দেওয়া বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতিও বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঋণ মওকুফ ও সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়ানোর মতো এসব পদক্ষেপে চলতি বছর প্রায় ২৯ হাজার ৮০০ কোটি ব্রাজিলীয় রিয়াল বা ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে রাজস্ব ইনস্টিটিউট।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচনি প্রচারে ঘোষিত সামাজিক ব্যয়ের জন্য অর্থের সুস্পষ্ট উৎস নেই। বাজেট উদ্বৃত্ত অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানও নিশ্চিত নয়।
জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, শুধু ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি যথেষ্ট নয়। বাধ্যতামূলক সরকারি ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় সংস্কার প্রয়োজন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। ব্রাজিলের বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যয় হয় সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মীদের বেতনের মতো বাধ্যতামূলক খাতে। আইনগত পরিবর্তন ছাড়া সরকারের পক্ষে অন্য খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ তাই সীমিত।
২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রথম দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা লুলা তৃতীয় মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কর ও সরকারি ব্যয় বাড়িয়েছেন। সমালোচকদের মতে, সরকারের শিথিল রাজস্বনীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশটির নীতি সুদের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের আরও বৃদ্ধি ঠেকাতে বাজেট ঘাটতি কমানো জরুরি। বর্তমানে ব্রাজিলের সরকারি ঋণ জিডিপির ৮৩ শতাংশ, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, বলসোনারো অর্থনীতির আকারের প্রায় ২ শতাংশের সমপরিমাণ ব্যয় সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঋণের গতিপথ উন্নত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে লুলার সরকার। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও সরকার সাড়া দেয়নি।