চা শিল্পে বিশেষ অবদান: পুরস্কার পেলেন ৯ ক্যাটাগরির সেরারা
ছবি সংগৃহীত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জাতীয় চা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ৯টি ক্যাটাগরিতে শীর্ষ চা বাগান, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান, উদ্ভাবনী বিপণন, শ্রমিক কল্যাণ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ চা উৎপাদনে অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

শনিবার (২০ জুন) চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে ৬ষ্ঠ জাতীয় চা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, চা শুধু পানীয় নয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, অর্থনীতি এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। চা শিল্পকে আধুনিক, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।

চা শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া এ শিল্প এগোত না। তাদের ন্যায্য মজুরি, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

শ্রীমঙ্গলকে আন্তর্জাতিক মানের ‘চা পর্যটন’ কেন্দ্র গড়ে তুলতে ‘শ্রীমঙ্গল পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। তিনি বলেন, চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিক, মালিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কল্যাণ সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহ মাইনুদ্দীন হাসান, টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ব্রড লিফ টি ফ্যাক্টরি মালিক সমিতির সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি।

পুরস্কারপ্রাপ্ত যারা-

(১) একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদন- শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগান  

(২) সর্বোচ্চ গুণগতমানসম্পন্ন চা উৎপাদন- মধুপুর চা বাগান  

(৩) শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক-  দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড  

(৪) শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী- পঞ্চগড়ের মো. মতিয়ার রহমান। 

(৫) শ্রমিক কল্যাণে শ্রেষ্ঠ চা বাগান- মির্জাপুর চা বাগান।

(৬) চা পণ্যের উদ্ভাবনী বাজারজাতকরণ- কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড।  

(৭) পুষ্টিসমৃদ্ধ ও মানসম্পন্ন চা মিশ্রণ বাজারজাতকরণ- কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড। 

(৮) শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী- নেপুচা চা বাগানের জেসমিন ওরাওঁ। 

(৯) শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা- পঞ্চগড়ের সৃষ্টি টি লিমিটেড।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। চা উৎপাদন, বিপণন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।

দিনব্যাপী আয়োজনে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, চা বাগান মালিক, চা শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

—জা. অর্থনীতি/এনজে