ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বহিরাগত ব্যক্তিকে চিহ্নিত ও তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটিতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনুর রহমানকে আহ্বায়ক, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলামকে সদস্য সচিব এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলীনূর রহমান বলেন, "প্রশাসন আমাদের নিয়ে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আগামী শনিবার আমরা বৈঠকে বসব এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করব।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অফিসকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।"
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) ছাত্রী। বুধবার সকাল ১১টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে কলা অনুষদের ৫ম তলায় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের করিডোরে এক অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম আতঙ্কিত হয়ে প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রক্টরিয়াল টিম তাৎক্ষণিকভাবে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পলাতক অভিযুক্তকে শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'যৌন হয়রানি ও প্রতিরোধ কমিটি'কে অবগত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি