ছাত্রী বিক্ষোভ: অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে প্রধান শিক্ষক
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নাটোর প্রতিনিধি: আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার নানা অভিযোগে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আহমেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে তার অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন সাধারণ ছাত্রীরা। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাটোর জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিলে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ছাত্রীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

এর আগে গত রবিবার সকাল থেকেও একই দাবিতে ছাত্রী ও অভিভাবকেরা আন্দোলনে নামলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবুল হায়াত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওই দিনই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবিদা সিফাতকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি এবং ছাত্রীদের টিফিন, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও ক্লাসে উপস্থিতি সংক্রান্ত বিষয় তদন্তে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজাহার আলীকে প্রধান করে অপর কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দুটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

তবে তিন কার্যদিবস শেষ হওয়ার আগেই বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলনে নামেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ৬ষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির বোর্ড ফি যথাক্রমে ২৩৩ টাকা ও ২৮২ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ ও ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। এছাড়া সাড়ে ৯ টাকার নিম্নমানের টিফিন সরবরাহ করে ভাউচারে ১৮ টাকা দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আহমেদ বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যেসব অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। কারো প্ররোচনায় শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ছুটিতে যাচ্ছি।"

এ বিষয়ে নাটোর জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি