তাপস কুমার, নাটোর: শীতের আগমনী বার্তায় মুখর হয়ে উঠেছে নাটোরের সিংড়ার চলনবিল এলাকায়। জলাভূমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। পাখির কলকাকলি আর জলরাশির মিতালিতে বদলে গেছে বিলের চিরচেনা দৃশ্যপট। কাকডাকা ভোর থেকেই তাদের ওড়া-উড়ি আর কোলাহলে মুখর থাকছে এই বিল।
সাদাবক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক আর নাম না জানা হাজারো শীতের অতিথি পাখির নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো, ঋষি বকের ধ্যানমগ্ন চিত্র-যে কোনো মানুষের মনে আনন্দ দেয়। বিলের অল্প পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরে খাওয়ার দৃশ্যপট যেন এক নৈসর্গিক পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এতে পুরো চলনবিল পাখিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শীত এখনো পুরোপুরি জেঁকে বসেনি।
এরই মধ্যে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে চলনবিল। জলরাশি আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির উড়াউড়ি তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রকৃতিপ্রেমীরা।
তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য রক্ষায় এখনো বড় চ্যালেঞ্জ অবৈধ পাখি শিকার।
চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি এসএম রাজু আহমেদ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। চলনবিলেও দেখা মিলছে সাদাবক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, কাঁদাখোঁচা, ডাহুক, শামকৈল, রাতচোরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির। খাবারের সন্ধানে কখনো পানিতে, কখনো বিলের তীরে বিচরণ করছে তারা।
তবে জলাভূমি সংকোচন, পানির স্বল্পতা ও অবৈধ শিকার পাখিদের নিরাপদ বিচরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিথি পাখি রক্ষায় কাজ করছেপরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। পাশাপাশি অবৈধ শিকার বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে শুধু অভিযান নয়, পাখি শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি পরিবেশকর্মীদের।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অমান্য করে পাখি শিকার করলে জেল-জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে