আমরা প্রতিদিন অসংখ্য সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হই। উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার, বিয়ে কিংবা নতুন কোনো ব্যবসা–জীবনের বড় বড় দোমোহনায় দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি। কোনটা ভালো হবে আর কোনটা মন্দ, তা আমাদের সীমিত বুদ্ধিতে ধরা পড়ে না। অথচ ১৪শ বছর আগেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক পথ দেখিয়ে গেছেন, যা অনুসরণ করলে জীবনের কোনো সিদ্ধান্তেই আফসোস করতে হয় না। সেটি হলো সালাতুল ইস্তিখারা বা আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনার নামাজ।
হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ওইভাবেই ইস্তিখারার নামাজ ও দোয়া শিখাতেন, যেভাবে তিনি আমাদেরকে কোরআনের সুরা শিখাতেন।’ (সহিহ বুখারি, ১১৬৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই অনন্য সুন্নতের নিয়মটি খুবই চমৎকার। কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে হয়। নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠের পর রাসুল (সা.)-এর শেখানো সেই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতে হয়: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি’ইলমিকা...’
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্যে তোমার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি...।
এই দোয়ার একটি বিশেষ সৌন্দর্য হলো, এর ভেতরেই নিজের কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি আল্লাহর কাছে ব্যক্ত করার সুযোগ রয়েছে। দোয়ার অর্থ অনুধাবন করলে বুকটা হালকা হয়ে যায়। বান্দা তখন অকপটে স্বীকার করে, হে আল্লাহ! আমি জানি না, তুমি জানো; আমার শক্তি নেই, তোমার আছে। এই কাজটি যদি আমার ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর হয় তবে তা আমার জন্য সহজ করে দাও, আর অকল্যাণকর হলে তা আমার থেকে দূরে সরিয়ে দাও।
ইস্তিখারা মানেই স্বপ্নে কোনো ইশারা পাওয়া নয়, বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের মনকে আল্লাহর ফয়সালার ওপর সঁপে দেওয়া। এর পর যে পথটি সহজ হয়ে যায়, সেটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণকর সিদ্ধান্ত। আসুন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে দোদুল্যমান না হয়ে সুন্নাহর এই আলোতে নিজেদের পথকে আলোকিত করি।
জা. অর্থনীতি/ উমার