ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের এক বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা ছাত্রীদের মাঝে তীব্র হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গত বছরের জুলাই মাসে গভীর রাতে ভিডিও কল, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, বডি শেমিং এবং নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকির কথা উল্লেখ করে বিভাগীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রীরা। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ২০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়ে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগকারী ছাত্রীরা জানান, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এক বছর পার হলেও চূড়ান্ত কোনো ফল না আসায় বিচারপ্রক্রিয়া অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের মুখে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন। বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মীম জানান, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক তাকে জানিয়েছেন যে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ না থাকায় স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে না।
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রশাসনের হাতে। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ ৬ মাস হওয়ায় তারা দ্রুত এর নিষ্পত্তি চান।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমউদ্দিন জানান, কয়েক দিন আগে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং বিলম্বের কারণও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল গোপনীয় হওয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিন্ডিকেট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল হক জানান, সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার দিনই প্রতিবেদন জমা পড়ায় তা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি