প্রেমে চীন থেকে মেহেরপুরে: বিয়ের পর দানা বাঁধছে নানা রহস্য
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মেহেরপুর প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের টানে চীন থেকে মেহেরপুরে ছুটে এসেছেন ডং জে (বর্তমান নাম মোহাম্মদ আলী) নামে এক চীনা নাগরিক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে স্থানীয় তরুণী কেয়া খাতুনকে বিয়ে করার পর তারা চীনে তিন মাস কাটিয়ে সম্প্রতি গোপনে মেহেরপুরে ফিরেছেন। তবে তাদের বিয়ের কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি মেলায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে চীনা নাগরিককে নিয়ে কেয়া গোপনে বাবার বাড়িতে উঠলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরদিন পুলিশ ও সাংবাদিকরা খোঁজ নিলে পরিবার দাবি করে তারা ঢাকা গেছেন। তবে পরে জানা যায়, তারা মেহেরপুর শহরেরই একটি ভাড়া বাসায় গোপনে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ডং জে-এর ভাঙা ইংরেজি ও কথা বলার ধরণ দেখে গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

এই দম্পতির দেখানো বিয়ের হলফনামা ও ম্যারেজ সার্টিফিকেটে মেহেরপুর জজ আদালতের আইনজীবী রূতসোভা মণ্ডলের স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে। তবে ওই আইনজীবী অভিযোগ করে বলেন, "গত তিন বছরেও আমি কোনো বিদেশি নাগরিকের বিয়ের নথি সম্পাদন করিনি।" তার নাম ও সিল জালিয়াতি করা হয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

নিকাহ রেজিস্ট্রার নান্নু জানান, বিদেশি বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে অনাপত্তিপত্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক, যা এই দম্পতি দেখাতে পারেননি। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ চার লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা কাগজে উল্লেখ থাকলেও এর কোনো বৈধ ভিত্তি মিলছে না। এছাড়া থানাকে জানিয়ে আসার দাবি করলেও জেলা পুলিশ তা অস্বীকার করেছে।

বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের জেলা সভাপতি রফিকুল আলম বলেন, অভিবাসন বিধি ও বিয়ের সব আইনি শর্ত মানা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি