সম্মানসূচক ডক্টরেড ডিগ্রি পাচ্ছেন রানী মুখার্জি

বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে জয় করেছেন দর্শক হৃদয়। গত বছর ক্যারিয়ারে প্রথমবার সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আর চলতি বছর এই অভিনেত্রী ভূষিত হতে যাচ্ছেন সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিতে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি তাঁকে ‘ডক্টর অব লেটারস’ ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) চলাকালীন আগামী ১৪ আগস্ট মেলবোর্নের ফেডারেশন স্কয়ারে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রানীর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। 

সম্মানসূচক ডক্টরেড ডিগ্রি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে রানী বলেন, ‘লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটারস ডিগ্রি পেয়ে আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি। আমার জীবনযাত্রায় সিনেমা সবচেয়ে বড় শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, গল্পের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলা, আলোচনা তৈরি করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’ 

মেলবোর্ন চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন যেভাবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিয়ত ভারতীয় সিনেমাকে সম্মানিত করে আসছে, ঠিক তেমন একটি আয়োজনে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য আরও অনেক বেশি বিশেষ কিছু। এই অবিশ্বাস্য সম্মানের জন্য আমি লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি এবং আইএফএফএম কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ 

অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছেন রানী। বিশেষ করে নারী, শিশু ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি। 

মেলবোর্ন চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠবে আগামী ১৩ আগস্ট। আর শেষ হবে ২৩ আগস্ট। ১০ দিনব্যাপী এ উৎসবের মাধ্যমে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে বলে মনে করেন আয়োজকরা। 

উল্লেখ্য, রানীর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি গতানুগতিক চরিত্রের বাইরে গিয়ে শক্তিশালী ও সমাজসচেতন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ব্ল্যাক’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘হিচকি’, ‘মার্দানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’র মতো সিনেমাগুলোর মাধ্যমে তিনি নারীর অধিকার, লিঙ্গবৈষম্য, প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোকে সিনেমায় তুলে ধরেছেন। পর্দার বাইরেও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। 

—জা. অর্থনীতি/এনএ