মিলাদ-কিয়ামের আড়ালে লুকিয়ে আছে যে ভয়াবহতা
ছবি: সংগৃহীত

বছরের একটা বিশেষ দিনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, আলোকসজ্জা আর জিলিপি বিতরণের মাধ্যমে কি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশ পায়? নাকি ৩৬৫ দিন তার সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী হয়ে চলাই মুমিনের আসল পরিচয়? আমাদের সমাজে ‘মিলাদ ও কিয়াম’ নিয়ে আবেগ আর যুক্তির লড়াই বহু পুরনো। কিন্তু আবেগ যখন শরীয়তের সীমানা ডিঙিয়ে যায়, তখন তা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে আনে।

১. উৎসবের রূপ ও বিদয়াতের অনুপ্রবেশ

যারা মিলাদ বা রাসুল (সা.)-এর জন্মোৎসব পালন করেন, তারা এটিকে একটি ধর্মীয় ঈদ বা নেক আমল মনে করেই করেন। কিন্তু দ্বীনের স্বার্থে কোনো কিছু নতুন করে সংযোজন করাই হলো বিদআত। যদি এই উদযাপন সওয়াবের কাজ হতো, তবে রাসূল (সা.) নিজে তা করতেন বা সাহাবীদের নির্দেশ দিতেন। ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষার বাইরে গিয়ে নতুন কোনো পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদত করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

২. ঐতিহাসিক অসারতা ও অনুকরণ

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ১২ই রবিউল আউয়ালকে নিশ্চিত জন্মতারিখ ধরা নিয়ে আলেমদের মাঝে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে তাঁর জন্ম ৯ই রবিউল আউয়াল। এছাড়া, এই ধরনের জন্মজয়ন্তী পালন মূলত খ্রিষ্টানদের দ্বারা ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন উদযাপনের একটি অন্ধ অনুকরণ, যা মুসলিমদের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিপন্থী।

৩. মিলাদের আড়ালে শিরকের ঝুঁকি

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রচলিত মিলাদ ও কিয়ামের অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক সময় এমন কিছু কবিতা বা শ্লোক পড়া হয়, যা সরাসরি ‘শির্কে আকবর’ বা বড় শিরকের পর্যায়ে পড়ে। যেমন— হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের সংকট দূর করুন। ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপনার ওপরেই আমার ভরসা।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ফতোয়া গ্রন্থের মতে, সাহায্য চাওয়া, ভরসা করা কিংবা সংকট দূর করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। রাসুল (সা.)-কে আল্লাহর সমকক্ষ ভাবা বা তার কাছে সরাসরি সাহায্য প্রার্থনা করা ঈমান বিধ্বংসী অপরাধ।

প্রকৃত সুন্নাতেই রয়েছে সমাধান

রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো তার প্রতিটি সুন্নতকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন এবং কারণ হিসেবে বলেছিলেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। (মুসলিম)। এটাই হলো আল্লাহর রাসূলের শেখানো প্রকৃত মিলাদ বা জন্মদিনের আমল।

লোকদেখানো উৎসব আর কিয়ামের পেছনে না ছুটে, সুন্নাহর আলোয় নিজেদের জীবনকে রাঙিয়ে তুলি। লোকমুখে প্রচলিত আচার বর্জন করে খাঁটি তাওহীদের ওপর অবিচল থাকাই হোক আমাদের লক্ষ্য।

জা. অর্থনীতি/ উমার