আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে সাপের ছোবল দিয়ে স্বামীকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত দামিনী পওয়ার গত এক বছর ধরে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের হত্যার কৌশল এবং স্বামী হত্যার ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, মেরঠের বেহসুমা এলাকার একটি পুরোনো হত্যাকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি সাপ ব্যবহার করে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, দামিনী তার প্রেমিক তুষারের সঙ্গে মিলে দুই সাপুড়ে-সোনু ও উদয়ের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি বিষধর সাপ সংগ্রহ করেন। হত্যার ১১ দিন আগে সাপটি কিনে একটি বাক্সে রেখে নিজেদের স্কুলে লুকিয়ে রাখা হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে দামিনী স্বামী অতুল পওয়ারকে ২৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দুধ পান করান। অতুল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলে ভোরে তুষার ও দুই সাপুড়ে বাড়িতে এসে তার বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের ছোবলে অতুলের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
এর আগে, প্রায় ২০ দিন আগে অতুলকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় অভিযুক্তরা নতুন কৌশল গ্রহণ করেন বলে মনে করছে পুলিশ।
ঘটনার পর দামিনী দাবি করেন, অতুলকে সাপে কামড়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ময়নাতদন্তে আপত্তি জানানোয় পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। পরিবারের অনড় অবস্থানের কারণে ময়নাতদন্ত করা হলে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ তুষার ও দুই সাপুড়ের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। এ ঘটনায় দামিনী, তুষার এবং দুই সাপুড়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, ২০২৫ সালে মেরঠের বেহসুমা এলাকায় সাপ ব্যবহার করে স্বামী হত্যার একটি বহুল আলোচিত ঘটনা এই পরিকল্পনার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকতে পারে। তবে বর্তমান মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত সত্য আদালতের বিচার ও তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।
জা.অর্থনীতি/এসআই