মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: একই পরিবারের ১১ জন সদস্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। জন্মগত ও বংশগত কারণে বছরের পর বছর অন্ধকারই ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৭নং কামারচাক ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের এই হতদরিদ্র পরিবারটির জীবনে এবার আশার আলো জ্বালালেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
সোশাল মিডিয়ায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তিনি পরিবারটির সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
ইসলামপুর গ্রামের এই পরিবারে ১১ জনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দারিদ্র্যের কারণে এতদিন উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। আলো-আঁধারির মাঝে ধুঁকছিল পরিবারটি। স্বপ্ন— যদি একদিন চোখে আলো ফেরে।
খবরটি নজরে আসার পর জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল সরাসরি ইসলামপুর গ্রামে পরিবারটির বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ শেষে তাদের মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এ সময় তিনি বলেন, এই পরিবারের ১ জন সদস্যের উন্নত চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো, প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার এবং পুনর্বাসন— সব কিছুর দায়িত্ব জেলা প্রশাসন নেবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো পিছিয়ে পড়া ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই পরিবারটি যেন চিকিৎসার অভাবে অন্ধকারে না থাকে, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।
ডিসির এই মানবিক সিদ্ধান্তে খুশি পরিবারটি ও পুরো এলাকা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এই পরিবারটির কথা হয়তো কেউই কখনো জানবে না। জেলা প্রশাসক স্যার নিজে উদ্যোগ নেওয়ায় আজ আমরা সত্যিই আনন্দিত। উনার উসিলায় হয়তো পরিবারের ছোট বাচ্চাগুলো আবার চোখের আলো ফিরে পাবে।
তারা আশা করছেন, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় খুব শিগগিরই ইসলামপুরের এই ১টি জীবনে অন্ধকার কেটে আলো ফিরবে।
জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসার জন্য বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সাথে সমন্বয় শুরু করেছে। প্রয়োজনে তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রেফার করা হবে। সমস্ত ব্যয় বহন করবে জেলা প্রশাসন।
ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেলের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ প্রমাণ করে, রাষ্ট্র তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের পাশেও দাঁড়ায়।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
