কালীগঞ্জে লাগামহীন নিত্যপণ্যের দাম, দিশেহারা ক্রেতারা
ছবি: সংগৃহীত

​তাসনিম মুহসিন, ঝিনাইদহ: মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হু হু করে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে রান্নাঘরের সবজির বাজার এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

বাজারে এসে চাহিদা মতো পণ্য না কিনেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে। পর্যাপ্ত ভারী শিল্প বা কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ দিন আনে, দিন খায়। এমন একটি জনপদে নিত্যপণ্যের এই আগুনমূল্য জীবনযাত্রাকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে।

​বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি থেকে শুরু করে আমিষ— সবকিছুর দামই চড়া। কয়দিন আগের ১০ টাকার পটল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া বেগুন ১৪০ টাকা, করল্লা ১৪০ টাকা কাঁচামরিচ ২২০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, শসা ১১০ টাকা এবং কচু ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা কয়দিন আগেও অনেক কম ছিল বলে ক্রেতারা জানান।

বেশিরভাগ সবজি এখন ৬০ থেকে ১০০ টাকার নিচে মিলছে না। আলু ও দাম বেড়েছে। ৩৫ টাকার পেঁয়াজ ৫০ টাকা, ৫০ টাকার রসুন  ৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাষের রুই, কাতলা ও পাঙাশসহ সব ধরনের মাছের দামও বেশ চড়া, আর এক কেজির ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

​দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা অতিবৃষ্টি ও পানির কারণে সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন। 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় সেভাবে বৃষ্টি বা জলাবদ্ধতা না থাকলেও অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। 

অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বাজারে সবজি কিনতে গেলে মাছ কেনা যায় না, আবার মাছ কিনতে গেলে সবজি বাদ দিতে হয়। সীমিত আয়ের মানুষগুলো আজ দুই বেলা ঠিকমতো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

​দক্ষিণ অঞ্চলের এই জনপদে কর্মসংস্থানের অভাব এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিনমজুর ও প্রান্তিক মানুষের কষ্টের অন্ত নেই। 

সাধারণ মানুষের জোর দাবি, দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করে অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফা রোধ করতে হবে। গরিব ও অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আচ্ছা বেড়ে গেছে আপনার কাছ থেকে আজকে সুনলাম, আমি যে মার্কেটিং অফিসার আছে উনাকে কালকে বাজারে তাহলে পাঠাবো, উনাদের যে বাজার মূল্য উনি যাচাই করে আমাকে জানাবে।

—জা. অর্থনীতি/এনজে