পে স্কেল কার্যকর হলে বকেয়া বেতন কীভাবে পাবেন?

গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কিন্তু বাস্তবে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পুরোনো বেতন কাঠামোতেই মাস পার করছেন। এতে করে অনেকের মনেই প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে-পুরোনো স্কেলে বেতন পেলেও বাড়তি টাকা কি পাওয়া যাবে?

উত্তর হলো- হ্যাঁ, অবশ্যই পাওয়া যাবে! অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া মাত্রই ১ জুলাই থেকে হিসাব করে প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ একসঙ্গেই ‘বকেয়া’ বা এরিয়ার হিসেবে পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপন বিলম্বে হলেও আপনার জুলাই থেকে হিসাব করা বাড়তি টাকা কিন্তু মার যাচ্ছে না।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসছে, সিদ্ধান্ত যদি হয়েই থাকে তবে প্রজ্ঞাপন জারিতে এতো সময় লাগছে কেন? বিষয়টি বুঝতে হবে। বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন মোটেও একদিনের কাজ নয়। এর পেছনে বেশ কয়েকটি জটিল আইনি ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

প্রথমত, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য সচিব কমিটি গঠিত হয় এবং তাদের একাধিক বৈঠকের পর চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর তৈরি হয় বিভিন্ন খাতের জন্য পৃথক আদেশ। এরপর আসে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ‘ভেটিং’ বা নিখুঁত যাচাই-বাছাই। ভেটিং শেষ হলে বিধিবদ্ধ আদেশ বা SRO নম্বর গ্রহণ করতে হয় এবং সবশেষে এটি সরকারি মুদ্রণালয় অর্থাৎ বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশের জন্য যায়। এই প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করতেই মূলত সময়টা বেশি লাগছে।

সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সচিবালয়ে এ বিষয়ে স্পষ্ট কথা বলেছেন। তিনি জানান, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ এখনো পুরোদমে চলছে এবং কাজ শেষ হওয়া মাত্রই তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, পে-স্কেল কার্যকরের সাথে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুন...
হঠাৎ ডলারের দাম বাড়ার নেপথ্য কী?

তবে মুদ্রার অপর পিঠও রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে দেশের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। এই অবস্থায় আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, এখনই নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। এমনকি আইএমএফ নতুন পে-স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। আগামী অক্টোবরে আইএমএফের সাথে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পরই মূলত এ বিষয়ে চূড়ান্ত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সুতরাং সারসংক্ষেপ দাঁড়িয়েছে এটাই- প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং আইএমএফের সাথে বৈঠকের কারণে প্রজ্ঞাপন জারিতে কিছুদিন সময় লাগলেও, প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই আপনি নতুন স্কেলের সুফল পাবেন। আর পে-স্কেল যেদিন থেকেই প্রজ্ঞাপিত হোক না কেন, জুলাই মাস থেকে কার্যকর ধরে আপনার সমস্ত বকেয়া অর্থ এক সঙ্গেই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন পেছাচ্ছে দেখে ভাবছেন বকেয়া বেতন পাবেন তো?

চিন্তার কিছু নেই! প্রজ্ঞাপন জারি হতে যত দেরিই হোক, অর্থ বিভাগ নিশ্চিত করেছে—গত ১ জুলাই থেকেই হিসাব করা হবে আপনার বাড়তি বেতন। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, এসআরও নম্বর নেওয়া এবং আইএমএফের আর্থিক পর্যালোচনার কারণে প্রক্রিয়াটি একটু দীর্ঘ হচ্ছে। তবে মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মিললেই ১ জুলাই থেকে প্রাপ্য সব বকেয়া অর্থ একলপ্তে চলে আসবে আপনার অ্যাকাউন্টে!