লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে মারধরের জেরে ফিরোজ হোসেন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অপমানের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি বিষপান করেন। এদিকে ঘটনার পর থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে নিহতের মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পাটগ্রামের আন্তঃজেলা মোড়ে মরদেহ রেখে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১ আগস্ট) পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত একটি সালিশি বৈঠকের রায়কে কেন্দ্র করে ফিরোজ হোসেনকে তার নিজ বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি—স্থানীয় যুবদল নেতা সাফিউল ইসলাম সামলু, ছাত্রদল নেতা স্বাধীন, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা শাহীন সাই ও তার ছেলে তুহীনসহ কয়েকজন এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।
মারধরের পর বিষপান করলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ফিরোজকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পাটগ্রাম থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দেওয়ায় এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা এসআই স্বপন পাল জানান, "ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসেনি। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।"
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই যুবকের মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি