অনলাইন ডেস্ক: তীব্র গ্যাস সংকটে ব্যাহত উৎপাদন, তার ওপর সরকারি ছুটির সুযোগ—এই দুইয়ের সমীকরণে গাজীপুরের প্রায় ২০ শতাংশ শিল্পকারখানায় শুরু হয়েছে টানা চার দিনের ছুটি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্টের সরকারি ছুটির পর শুক্র ও শনিবার নিয়মিত ছুটি রয়েছে। মাঝখানের বৃহস্পতিবার অনেক কারখানা বাড়তি ছুটি ঘোষণা করায় শ্রমিকদের জন্য এটি চার দিনের টানা ছুটিতে রূপ নিয়েছে। এতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন হাজারো পোশাক শ্রমিক। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় ও আশপাশের এলাকায় ঈদে বাড়ি ফেরার মতো মানুষের ঢল নেমেছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে অব্যাহত গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প মালিকেরা বাধ্য হয়ে উৎপাদনে সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের কারখানাগুলোতে এর তীব্র প্রভাব পড়েছে। তাই ৫ আগস্টের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার টানা চার দিনের ছুটি দিয়েছেন অনেক মালিক। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই কারখানা ছুটি হওয়ার পর মহাসড়কে যাত্রীদের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ী এবং চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা ঘুরে দেখা যায়—হাজার হাজার শ্রমিক গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। ঘরমুখো মানুষের এই হঠাৎ চাপকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে কিছু অসাধু পরিবহনচালক। তারা তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
সিরাজগঞ্জগামী এক পোশাককর্মী হাফিজুর রহমান বলেন, 'চার দিন ছুটি পেয়ে বাড়ি যাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু চন্দ্রায় এসে ঈদের মতো ভিড় আর বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।'
শিল্প মালিকরা বলছেন, সরকারি ছুটির সুযোগে এই সাময়িক ছুটি দেওয়া হলেও উৎপাদন বন্ধ থাকায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্যাসের অভাবে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকিতে পড়ছে। আমরা বাধ্য হয়ে ছুটি দিয়েছি, তবে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে, গাজীপুর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলায় দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ বা ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
তিতাসের মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক এলাকায় সংকটের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এই সংকট নিরসনে কাজ চলছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, 'এক দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে যোগ করে জেলার অনেক কারখানায় চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২০ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটি পেয়ে শ্রমিকরা তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।'
হঠাৎ করে মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকলেও গাড়ি থেমে থেমে চলছে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম