কুমিল্লা প্রতিনিধি: যে ছেলেকে ঘিরে দিনকয়েক আগেও পুরো পরিবারের বুকভরা স্বপ্ন ছিল, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে তার অর্জিত সাফল্যই বাবা-মায়ের জন্য হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বেদনার। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থী শিহাব হোসেন। কিন্তু সেই আনন্দের খবর ভাগ করে নেওয়ার জন্য প্রিয় সন্তানটি আজ আর বেঁচে নেই।
নিহত শিহাব হোসেন (১৮) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম শিপনের একমাত্র সন্তান এবং চট্টগ্রাম নৌবাহিনী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বন্ধুদের সঙ্গে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ঘুরতে যান শিহাব। সেখানে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় স্রোতের টানে তলিয়ে যান তিনি। পরদিন শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে তাঁর নিথর মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে সোমবার (১০ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে শিহাব জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর এলে পুরো নারান্দিয়া গ্রামে এক বিষাদময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছেলের ফলাফলের কাগজ হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে শিহাবের বাবা-মা বলেন, "আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে, কিন্তু এই আনন্দ আমরা কার সাথে ভাগ করব? আমাদের সন্তান তো আর বেঁচে নেই।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকেরা জানান, শিহাব ছিলেন অত্যন্ত নম্র, মার্জিত ও বিনয়ী স্বভাবের এক মেধাবী তরুণ। তার অকালপ্রয়াণে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সহপাঠীরা যখন উল্লাসে মেতেছে, তখন শিহাবের এই অনন্য অর্জন পুরো গ্রামের মানুষের চোখেই জল এনে দিয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি