যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী আবদুর রহমান মুহাম্মদ আল-সাইয়েদের জয়ের পরপরই ট্রাম্প এই পোস্টটি দেন।
দ্য নিউ আরবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সম্প্রতি তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে দুটি দৃশ্য পাশাপাশি দেখানো হয়। একদিকে আনুষ্ঠানিক পোশাকে দেখা যায় ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়াকে, অন্যদিকে একটি রেস্তোরাঁয় বসে থাকা আল-সাইয়েদ ও তার স্ত্রী সারাহকে, যিনি হিজাব পরিহিত ছিলেন। ছবির ওপরে লেখা ছিল—টু ভেরি ডিফারেন্ট আমেরিকাস অর্থাৎ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেরিকা। এই তুলনার পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা অবশ্য তিনি স্পষ্ট করেননি।
পোস্টটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। সমালোচকদের দাবি, ছবিতে আল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয় ও তার স্ত্রীর হিজাবকে বিশেষভাবে তুলে ধরে একধরনের ইসলামবিদ্বেষী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে আল-সাইয়েদ নিজে এই তুলনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হ্যাঁ, তিনি ঠিকই বলেছেন। এরপর ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান আমেরিকায় মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হচ্ছে।
আল-সাইয়েদ জানান, তিনি ও তার স্ত্রী চান—তাদের দুই মেয়ে এমন একটি আমেরিকায় বেড়ে উঠুক, যেখানে মানুষ ভালো স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, পরিষ্কার বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারবে এবং নিরাপদ পানি পান করতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
এদিকে ট্রাম্পের পোস্টের পক্ষে সরব হয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ইসলামবিদ্বেষী কর্মী হিসেবে পরিচিত লরা লুমার। তিনি মুসলিম অভিবাসনের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান এবং এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের পূর্বেকার মুসলিম ট্রাভেল ব্যানের মতো একটি নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে বলবৎ করার আহ্বান জানান।
আল-সাইয়েদের প্রাইমারি জয়ের পর থেকেই তার মুসলিম পরিচয় ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা ও আক্রমণ শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন সাংবাদিক আহমেদ বাবা ট্রাম্পের এই পোস্টকে সরাসরি ইসলামোফোবিক আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
জা.অর্থনীতি/ ওএফএ