মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত, বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার (১ সেপ্টম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০০:৪৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৫৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে ওঠে।

এর আগের সেশনে ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯১ ডলারে লেনদেন শেষ হয়। দিনের একপর্যায়ে এটি ২৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দেন। রবিবার দুই দেশের মধ্যে এক মাসের মধ্যে প্রথম সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক অচলাবস্থার দিকে মোড় নেওয়া সংঘাত আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাবনা আবারও সামনে এসেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামে এই ঝুঁকির প্রভাব পড়ছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমে প্রতিদিন পাঁচটিতে নেমে আসে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কাতার ও ওমানসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উদ্যোগ এখনো কোনো অগ্রগতি পায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত শুক্রবার ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। পরে তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (এসপিআর) তেল মজুত বাড়ানো সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশটির এই রিজার্ভ প্রায় ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

সোমবার প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন ও জিই ভার্নোভা, ভারতের ওএনজিসি, ইতালির এনিসহ কলম্বিয়ার জিওপার্ক ভেনেজুয়েলায় জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পথে রয়েছে। কয়েক মাসের আলোচনার পর এসব চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩১ লাখ ব্যারেল কমেছে। এতে মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে।

রয়টার্সের আগস্টের এক জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় ২০২৬ সালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স

জা.অর্থনীতি/এসআই