নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দরগুলোতে টানা অভিযানে প্রায় এক কোটি টাকার চোরাচালানের পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর পরিচালিত পৃথক অভিযানে বিদেশি সিগারেট, স্মার্টফোন, মোবাইল এলসিডি, মাদারবোর্ড, বিদেশি মদ, ওষুধ ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিমানবন্দর ক-শিফট সাউদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৪ ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রীর ব্যাগেজে অভিযান চালায়।
এ সময় মো. মনসুর আলমের কাছ থেকে ২৩১ কার্টুন এবং মো. নওয়াজ শরীফের কাছ থেকে ২৫০ কার্টুনসহ মোট ৪৮১ কার্টুন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য উনিশ লাখ চব্বিশ হাজার টাকা।

একই দিনে ব্যাংকক থেকে আসা টিজি-৩৩৯ ফ্লাইটের যাত্রী টিপু আল ইমরানের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৩৬টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি রেডমি টার্বো ফোর প্রো এবং ১৭টি অনার ২০০ মডেলের ফোন ছিল, যার বাজারমূল্য পনেরো লাখ ছিয়ানব্বই হাজার টাকা। একই ব্যাগেজ থেকে আরও ৫৫০ পিস বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল এলসিডি এবং ৯৫০ পিস ডিসপ্লেসহ মাদারবোর্ড (বাটন মোবাইল) আটক করা হয়। এলসিডিগুলোর আনুমানিক মূল্য বাইশ লাখ টাকা এবং মাদারবোর্ডগুলোর মূল্য চৌদ্দ লাখ পঁচিশ হাজার টাকা।
এ ছাড়া টহলকালে ব্যাগেজ বেল্টের পাশের পরিত্যক্ত হাতব্যাগ থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় তিন লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার মূল্য ষাট হাজার টাকা।
পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর বাহরাইন থেকে আসা গালফ এয়ারের জিএফ-২৪৮ ফ্লাইটের যাত্রী মো. আল আমিনকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে আটক করে আঠারো লিটার রেড লেবেল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য তিন লাখ ষাট হাজার টাকা।
একই দিন চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে বারো কার্টুন বিদেশি সিগারেট, রোওয়াটিনেক্স ও সাব্রিল ওষুধ এবং এক শ গ্রাম স্বর্ণালংকার আটক করা হয়। এসব পণ্যের মূল্য একুশ লাখ আটচল্লিশ হাজার এক শ টাকা।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের এই দুই দিনের অভিযানে মোট সাতানব্বই লাখ তেরো হাজার এক শ টাকা—প্রায় এক কোটি টাকার চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার এ ধরনের নিবিড় নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ