‘৭ দিনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালের সমস্যা সমাধানের নির্দেশ’
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতাজনিত দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে আগামী সাত দিনের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সাথে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও নিয়মিত ডিউটি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের দেরিতে আসা ও সময়ের আগে চলে যাওয়ার প্রমাণ মেলায় এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে র‍্যাব ও ডিজিএফআই-এর যৌথ তদারকিতে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রতারক চক্রকে গ্রেফতারের কাজ চলছে। ভুয়া চিকিৎসক ও অনুমোদনহীন টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা সম্পূর্ণ দূরীকরণে তিনি আরও ছয় মাস সময় চেয়েছেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে প্রতি ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন ডাক্তার বা নার্স নিয়োজিত রয়েছেন। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।"

টিকা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি জানান, তথ্যের ঘাটতি ও অন্যান্য কারণে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে হাওরাঞ্চলসহ সারাদেশে চলতি মাসের শেষ দিকে আবারও বিশেষ হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। সিলেটে ইতিমধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে তিন হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী ও ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি