অক্টোবরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। আগামী অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এজন্য ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরে দু'দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

কর্মশালার উদ্বোধর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চার বছর পর্যন্ত চলবে। সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই জন্য দুই মাস পর পর রিভিউ করা হবে। তাই নির্ভুলভাবে ডাটাবেজ তৈরিতে এই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে দল ও মতের কোন সম্পর্ক থাকবে না।’ তাই মাঠ পর্যায়ে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করার নিদের্শনা দেন তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক' ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর যে কনসার্ন, সেই প্রেক্ষিতে আমরা মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষিতদের সততা ও আন্তরিকতার সাথে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।  দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার। যা বাস্তবায়নে কাজ করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় শপথ নেওয়ার পর ১০ দিনের মাথায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করছে। নারীদের ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং এর কাজ শেষ করেছি। অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ডাটা কালেকশন কেবলমাত্র ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সীমাবদ্ধ না। আপনারা জানেন যে, আমরা ইন্টিগ্রেটিভ সিস্টেমের কথা চিন্তা করছি। যেখানে একটি কার্ড থাকবে। যে কার্ডের মাধ্যমে  সকলকের তথ্য সংরক্ষণ থাকবে। এর ফলে অনেক ধরনের ডুপ্লিকেশন আমরা বন্ধ করতে পারব, ডাবল ক্লিপিং বন্ধ করতে পারবো, ক্রাইম বন্ধ করতে পারবো। তিনি বলেন, একজনের সিমকার্ড দিয়ে আরেকজন ক্রাইম করে, সিম তোলে একজনের নামে আর থ্রেট দেয় আরেকজনের ফোনে। এগুলো সমস্ত কিছু বন্ধ করা যাবে শুধুমাত্র যদি আমরা সঠিকভাবে ডাটা কালেকশনগুলো করতে পারি। 

—জা.অর্থনীতি/আরএস