পদ্মার পানিতে ডুবেছে কৃষিজমি, পানিবন্দি সাড়ে  চারশ পরিবার
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নাটোর প্রতিনিধি: উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি। তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ও সবজি। এছাড়া বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নদী তীরবর্তী সাড়ে চার শতাধিক পরিবারের মানুষ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি সমতল ১৩.০৬ মিটারে পৌঁছায়। সে অনুযায়ী বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম। তবে তিনি জানান, নতুন করে পানি আরও বৃদ্ধির তেমন সম্ভাবনা নেই।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চর ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদী সংলগ্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া গো-খাদ্যের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গরু ও মহিষের খামারিরা।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক প্লাবনে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩৫ হেক্টর আখ, ৭ হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর ফলবাগান। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফসলি জমিগুলো পুরোপুরি পানির নিচে। কৃষকেরা নৌকা ও ভেলায় করে ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক নাসিরুল জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে তার দুই বিঘা জমির মুলা ও বেগুন খেত পানির নিচে চলে গেছে। এদিকে ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কুলচরা লক্ষ্মীপুর চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, "চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় চারণভূমি নেই, ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। মহিষকে এখন শুধু ধানের শুকনা খড় ও পানি খাইয়ে রাখতে হচ্ছে।"

পানির প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়ে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরের প্রায় ৫০টি বসতঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। বর্তমানে রসুলপুর, দিয়ারশংকরপুর, নওসারা সুলতানপুর ও আরজি বাকনাই গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪ শত পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবিক জীবনযাপন করছেন।

বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, চরাঞ্চল পরিদর্শন করে ফসল ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পানি নেমে গেলে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন বলেন, "উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি