৯ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে অন্তত চারটি বড় বিনিয়োগ চুক্তিতে সই করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১২,৩০০ কোটি রুপির বিনিয়োগ আসবে এবং প্রায় ৯,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খবর এনডিটিভির। 

সবচেয়ে বড় চুক্তিটি হয়েছে ‘সামবর্ধন মাদারসন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর সঙ্গে, যার পরিমাণ ১১,০০০ কোটি রুপি। 

ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং, উৎপাদন, অ্যাসেম্বলি ও লজিস্টিকস খাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। 

এ ছাড়া চেন্নাইয়ে একটি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) গড়ে তুলতে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং-এর মাধ্যমে একটি ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গে ১,০০০ কোটি রুপির চুক্তি করেছেন বিজয়। চেন্নাইয়ের আসন্ন জিসিসি করিডোরে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রটিতে প্রায় ২,০০০ উচ্চমূল্যের চাকরি তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃতীয় চুক্তিটি হয়েছে সুইডেনভিত্তিক ‘সিগমা টেকনোলজি গ্রুপ’-এর সঙ্গে, যারা চেন্নাই ও তিরুচিরাপল্লীতে তাদের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার সম্প্রসারণ করবে এবং এর ফলে প্রায় ৬০০টি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। চতুর্থ চুক্তিটি হয়েছে ‘উইলসন পাওয়ার সলিউশনস’-এর সঙ্গে, যার অর্থমূল্য ৩০০ কোটি রুপি। তিরুভল্লুর জেলায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। 

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য সফরে যাওয়ার আগেই ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে রাজ্যে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিং, অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক ভেইকল এবং জিসিসি খাতের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে তারা। 

এ ছাড়া গত ১৫ জুলাই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত-যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। টিভিকে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই ১ লাখ কোটি রুপিরও বেশি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 

বিনিয়োগের পাশাপাশি মোটর স্পোর্টসের বিষয়টিও মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি সিলভারস্টোন রেসিং সার্কিট পরিদর্শন করে দক্ষিণী অভিনেতা ও রেসার অজিত কুমারকে নিয়ে একটি রেসের শুভ সূচনা করেন বিজয়। তামিলনাড়ুতে একটি বিশ্বমানের মোটর স্পোর্টস সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তার এই সফর।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর এবং বৈঠকের নির্দিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তবে শাসক দল টিভিকে-র মুখপাত্র পি সত্য কুমার জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতামূলক ফেডারেলিজমের কারণে বিনিয়োগের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি এবং সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। 

জানা যায়, বিনিয়োগ আকর্ষণ করার এই সফর এখনো শেষ হয়নি। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য ত্যাগ করার কথা রয়েছে, ফলে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আরও কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ