নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়েও চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না অনেক তরুণ। এ ঘাটতি দূর করে গ্র্যাজুয়েটদের দেশি-বিদেশি কর্মবাজারের উপযোগী করতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
পরিকল্পনায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পিএইচডি অর্জনের সুযোগ বাড়ানো এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর ) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অনেক গ্র্যাজুয়েট চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ না হওয়ায় প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও তাঁরা পিছিয়ে রয়েছেন।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে ইউজিসির। তিন থেকে ছয় মাসের এ ইন্টার্নশিপে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। এ সময় তাঁদের মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অর্ধেক সরকার এবং বাকি অর্ধেক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দেবে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে হিট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দুই হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও গবেষণায় বিদেশে অবস্থানরত মেধাবী বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করতে এক বছরের ফেলোশিপসহ একাডেমিক ক্যারিয়ার প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় বাস্তব সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থায়নের নীতিমালা তৈরির কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কার্যক্রম সম্প্রসারণে টিউশন ফির বিষয়েও কমিশনের সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াতে শিগগিরই সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রির মান ও বেকারত্ব নিয়ে যে হতাশা রয়েছে, তা দূর করতে ইউজিসি সহযোগিতা করবে। সভা-সেমিনার আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগেও কমিশন সহায়তা দেবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণার অর্থ প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেওয়া যেতে পারে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার সক্ষমতাও বাড়বে।
সভায় উপাচার্যরা অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি ও সেমিস্টার পরিচালনায় নির্দেশিকা প্রণয়ন, ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়ন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার সম্পর্ক জোরদারে ইউজিসির সহযোগিতা চান। পাশাপাশি কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিভাগ খোলা এবং শিক্ষকসংকট কাটাতে শূন্য পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেন তাঁরা।
—জা.অর্থনীতি/আরএস
