ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের ফাইল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাড়ার আহ্বান
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের ফাইল আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তররা গত ১৭ বছর ধরে দশম গ্রেডের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দাবি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ‘বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের উদ্যোগ বিএনপি সরকারের নেওয়া, সেটি এখনো বাস্তবায়ন না হওয়া খুবই দুঃখজনক। 

তিনি আরও বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে। সেখানে কতজন ফার্মাসিস্ট থাকবেন, সেটি ফার্মাসিস্টদেরই ঠিক করতে হবে। কোন শয্যার হাসপাতালে কতজন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন, সে অনুযায়ী কাঠামো তৈরি করে অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন রতনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব সিকদার মো. জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী এবং ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমটিএ) সভাপতি খাজা মাইন উদ্দিন মঞ্জু, মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এম-ট্যাব) সভাপতি এ কে এম মুসা লিটন উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী বলেন, দেশে ও বিদেশে স্বাস্থ্য খাতে ফার্মাসিস্টরা অন্যান্য পেশাজীবীর মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির মতো সংকটে তাদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্টের পর বন্যাকবলিত এলাকাতেও চিকিৎসাসেবা দিতে ফার্মাসিস্টরা পাশে ছিলেন।

ফার্মাসিস্টদের আরও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,গত ২৫ বছরে বিশ্ব অনেক এগিয়েছে। প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ফার্মাসিস্টদের নিজেদের আরও প্রস্তুত করতে হবে। ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। যৌক্তিক দাবি গুলো পূরণে সরকারের শতভাগ ইচ্ছা রয়েছে। তবে এজন্য কিছুটা সময় দিতে হবে এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান বলেন, সরকার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ ও ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। এসব হাসপাতালে আনুপাতিক হারে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। বাংলাদেশকে ঢেলে সাজাতে হলে সরকারের অঙ্গ ও রাজনৈতিক নেতাদেরও সমানভাবে কাজ করতে হবে।

তৃণমূল পর্যায়ে ওষুধ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এখনো অনেক দুর্বল উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের সভাপতি নাছির উদ্দিন রতন বলেন, ফার্মাসিস্টদের দাবি পূরণের বিষয়ে অধিদপ্তর আশ্বাস দিয়েছে। আমরা এতে আশ্বস্ত হতে চাই। একই সঙ্গে ফার্মাসিস্টদের আরও দক্ষ হতে হবে। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অন্যান্য পদের কর্মীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ফার্মাসিস্টদের সেই সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও তা পূরণ হয়নি। দশম গ্রেডের দাবিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। যে পদে ফার্মাসিস্টদের চাকরিতে যোগদান, সেই পদেই তাদের চাকরি শেষ হচ্ছে।

ফার্মাসিস্টরা বলেন, নার্সদের দশম গ্রেড দেওয়া হয়েছে। একই পদে যোগদান করেও ফার্মাসিস্টদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে তারা অবিলম্বে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ-সংক্রান্ত ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরছে, কিন্তু কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না।

তারা আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আগে ফার্মাসিস্টদের দুটি পদ ছিল। এখন একটি পদ করা হচ্ছে। নতুন পদ সৃষ্টি না করে উল্টো বিদ্যমান পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে ওষুধ ব্যবস্থাপনা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি