ঋণ আদায়ে ইউসিবির কঠোর পদক্ষেপ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: যে ভবনে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, সেই জমিই এবার জব্দ! প্রায় ১৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে রাজধানীর গুলশানে নাসা গ্রুপের একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক-ইউসিবি। সিটি ব্যাংক কার্যালয়সহ নাসা গ্রুপের জমি জব্দ।

গুলশান-১-এর গুলশান মডেল টাউনের এসই (ডি) ব্লক-৩ এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমির ওপর থাকা সম্পত্তিটির মালিক নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের সংশ্লিষ্টতায় ইউসিবির মহাখালী শাখা থেকে নেওয়া ঋণ সুদসহ প্রায় ১৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুললেও ক্রেতা পায়নি ব্যাংকটি। পরে মামলা করলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থঋণ আদালত সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া এটি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনো লেনদেন করা যাবে না।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হওয়া নজরুল ইসলাম মজুমদার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস-বিএবির সাবেক চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

এদিকে, নাসা গ্রুপের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটির নামে-বেনামে অন্তত ২২টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে।

ইউসিবির প্রধান ক্রেডিট কর্মকর্তা জিশান কিংশুক হক জানিয়েছেন, ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতের মাধ্যমে সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংকটির জনসংযোগ বিভাগ থেকেও সাড়া মেলেনি।

একদিকে ১৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, অন্যদিকে নাসা গ্রুপের নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার ঋণের তথ্য। এখন প্রশ্ন-এই বিপুল অর্থ আদায়ে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয় ব্যাংকগুলো, আর কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় আইনি প্রক্রিয়া?

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি