অধিকৃত জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের প্রবেশ এবং বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে তিনি এই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেন।
আল-আকসা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় বেন গাভির অত্যন্ত উসকানিমূলক ভাষায় নিজেকে সেখানকার মালিক হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, আজ আমি এখানে নিজেকে মালিকের মতো মনে করছি। তিনি আরও দাবি করেন যে, আল-আকসা মসজিদটি ইহুদি সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং এখানে ইহুদিদের প্রার্থনা, সংগীত ও ধর্মীয় আচার পালনের পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর এই বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ দিচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সফরকালে তার সঙ্গে কট্টরপন্থী রাব্বি এলিশা উলফসন ও বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বেন গাভিরের এই কর্মকাণ্ডকে ‘স্থিতাবস্থা চুক্তির চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই সফর পবিত্র স্থানের অবমাননা এবং একটি পরিকল্পিত উসকানি, যা অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
উল্লেখ্য যে, ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী আল-আকসা প্রাঙ্গণের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামি ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের এই নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে অমুসলিম বা ইহুদিদের প্রবেশের অনুমতি থাকলেও কোনো প্রকার প্রার্থনা বা ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি নেই। বেন গাভিরের আজকের কর্মকাণ্ড এই স্পর্শকাতর ভারসাম্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
১৯৭৬ সালে জেরুজালেমে জন্মগ্রহণকারী বেন গাভির বর্তমানে ইসরায়েলের জিউইশ পাওয়ার পার্টির প্রধান। তিনি একজন কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত, যিনি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী। তার বিরুদ্ধে এর আগেও বহুবার ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো ও উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
জা. অর্থনীতি/উমর