প্রযুক্তি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) প্রাথমিক আবেদনপত্র (এস-১) জমা দিয়েছে অ্যানথ্রোপিক। ১৬ নভেম্বর থেকে নিউইয়র্কের নাসডাক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন শুরু হতে পারে। শেয়ারবাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ দুই ট্রিলিয়ন বা দুই লাখ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি পাবলিক কোম্পানিগুলোর তালিকায় শীর্ষে নিয়ে যাবে। ‘এএনটি’ টিকারে প্রতিষ্ঠানটি তাদের শেয়ার লেনদেন করবে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অ্যানথ্রোপিকের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৩০০ শতাংশ বেড়ে ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তাদের এআই সিস্টেম ‘ক্লড’ এর ওপর ভর করেই এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে ১৪ হাজারের বেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের সেবা নিচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠান বার্ষিক ১ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব প্রদান করে থাকে। সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ক্লডের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭০ লাখে।
আয়ের ক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য দেখালেও এসইসির প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বড় আকারের নিট ক্ষতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অ্যানথ্রোপিকের নিট ক্ষতির পরিমাণ ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মোট ক্ষতির প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলার বা ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলার হয়েছে মূলত কিছু আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও কাগজের কলমে দেখানো মূল্যের পরিবর্তনের কারণে। মূল পরিচালন ব্যয়ের অংশ হিসেবে এআই অবকাঠামো ও কম্পিউটিং খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন বা ৯০০ কোটি ডলার।
অ্যানথ্রোপিকের এই আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়াটি পুরো এআই শিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই মূলধনি ব্যয়, অবকাঠামোগত ঋণ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের আইপিও আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে। এই পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত অ্যানথ্রোপিক নিয়েছে, তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং এআই খাতের প্রকৃত বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এর আগে গত মে মাসে ৬৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ণ ধরা হয়েছিল ৯৬৫ বিলিয়ন ডলার।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে জমা দেওয়া নথিতে অ্যানথ্রোপিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক রূপান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে মোট ৯৩ পৃষ্ঠার ঝুঁকির তালিকা যুক্ত করেছেন। এই ঝুঁকিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি জৈব অস্ত্র তৈরিতে প্রযুক্তির অপব্যবহার, সাইবার হামলা, সার্ভেল্যান্স স্টেট তৈরির আশঙ্কা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানির নথিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, তাদের এআই মডেল কোনো ক্ষতি সাধন করলে তা সামলানো বিমা কাভারেজের বাইরে চলে যেতে পারে।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য ‘ক্লড কোড’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য ‘কোওয়ার্ক’ এজেন্ট চালু করার পর করপোরেট খাতে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে। ফিনটেক সংস্থা র্যাম্পের মতে, সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ অ্যানথ্রোপিকের সেবা ব্যবহার করেছে, যা ওপেনএআইয়ের (৪০.৬%) চেয়ে বেশি।