আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার নিচে চাপা পড়া এবং ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে তেহরান তাদের অভিযান ত্বরান্বিত করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালাতেই ইরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধারের এই চেষ্টা চালাচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ওই বৈঠকে ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক অবরোধের সার্বিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করেন। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে তাঁর সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় একটি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানো অথবা দেশটিকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়ে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া। তবে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর পরিকল্পিত চীন সফরের বিষয়টি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের নীতি নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে ইরান ধ্বংসস্তূপ থেকে সমরাস্ত্র উদ্ধারে ব্যস্ত থাকলেও ওয়াশিংটন প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে মার্কিন অভিযানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পেন্টাগনের এই দাবির বিপরীতে কিছু গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান এবং নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে, যা তেহরানের টিকে থাকার এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে ইঙ্গিত করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১টি জাহাজকে এই প্রণালি পারাপারে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, কিন্তু হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা বা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা বা ব্রেকথ্রু আসেনি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন যে ইরান বর্তমানে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তাঁর মতে, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং তাদের হাতে এখন মাত্র অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। অন্যদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান হয়তো সুপরিকল্পিতভাবে তাদের মূল অস্ত্রাগার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে এবং উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলো দিয়ে তারা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যে কোনো সময় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জেএ/অভি
