কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- মহিউদ্দিন ও রণি নামের দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। তাদের বাড়ি ঝিলংজার বিসিক এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আদালত চত্বরে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সংঘর্ষের সময় এক যুবককে বেধড়ক মারধর করে একটি সাদা রঙের গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এদিকে জেলা জজ আদালত এলাকায় মুহুর্মুহু গুলির শব্দে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী মেম্বারের ছোট ভাই জায়েদ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই লিয়াকত একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে ফেরার পথে আদালত প্রাঙ্গণেই দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে টার্গেট করে গুলি চালায়। অল্পের জন্য তিনি বেঁচে গেলেও আমাদের সাথে থাকা ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা হামলাকারীদের একজনকে অস্ত্রসহ ধরে ফেলেছি, তবে অন্য ৩ জন পালিয়ে গেছে। আমার ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী খালেক ও মিজবাহ বাহিনী হত্যার চেষ্টা করে আসছে।
গোলাগুলির ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র্যাব দ্রুত আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার পেছনের কারণ উদঘাটন ও বাকি জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে