সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন উৎস থেকে মোট ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পিত মোট তহবিলের মধ্যে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের জন্য সরাসরি সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ৩০০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিপুল সৃজনশীল শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এর অংশ হিসেবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর বিশ্বমানের একটি কেন্দ্রীয় ক্রিয়েটিভ হাব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই ধরনের সৃজনশীল হাব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মধ্যে শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলোতে ইনোভেশন হাব চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ উদ্যোগের আওতায় সৃজনশীল অর্থনীতির পণ্য চিহ্নিত করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হস্তচালিত তাঁতের পণ্য, মৃৎশিল্প, বয়নশিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না এবং টেরাকোটা হস্তশিল্প।

জাতীয় ডিজাইনার পুল (ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স) গঠন এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ডিজাইন সেন্টারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও ঐতিহ্যবাহী ভবন পুনরুদ্ধার করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় ও আঞ্চলিক ক্যালেন্ডারও প্রণয়ন করা হবে।

পর্যটন খাতকে সৃজনশীল অর্থনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক আতিথেয়তা প্রশিক্ষণ ও সনদ কর্মসূচি চালু এবং একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) চূড়ান্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সৃজনশীল সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি জাতীয় ব্র্যান্ডিং উদ্যোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ওটিটি শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্মত স্টুডিও সুবিধা গড়ে তোলার মাধ্যমে নাট্যকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করা হবে।

ক্রীড়াকে সৃজনশীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকার এটিকে শুধু বিনোদনের উৎস হিসেবে নয়, বরং আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে রূপান্তর করতে চায়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া’ কর্মসূচির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেধাবী ক্রীড়াবিদদের ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ আটটি ডিসিপ্লিনে বৃত্তি দেওয়া হয়।

বাজেট নথি অনুযায়ী, এ কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে সারা দেশে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন তরুণ ক্রীড়াবিদ নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ জন ছেলে এবং ৪৭ হাজার ১৩০ জন মেয়ে।

এ ছাড়া দেশের ৬৪টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠা, ক্রীড়া কূটনীতি জোরদার এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ