কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার শিকার ৩ পরিবারের শিশুসহ ১২ জন দুই দিন ধরে শুন্যরেখার পাটখেতে অবস্থান করছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) ভোর ৫টা থেকে তারা দুই দেশের সীমান্তের শুন্য রেখায় খোলা মাঠে অবস্থান করছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মাঝে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে বিএসএফ জানায়, তাদের বিষয়ে যাছাই-বাছাই করার পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকার লোকজন কৌশলে আজ সকালের দিকে তাদের কাছে খিচুড়ি ভাত পাঠিয়েছেন। সেটা নিয়ে তারা ভারতের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ বাধা দেয়। পরে তারা ১৪৮/৩ এস পিলার থেকে ভারতীয় ৫০ গজের মধ্যে পাটখেতের আইলে একটি শিমুলগাছের তলায় বসে আছেন। যেখানে মানবেতরভাবে গেল রাতও কাটিয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে ১০ মাস থেকে ৪ বছর বয়সী ৩ জন শিশু আছে। আছে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। এলাকার মানুষ কৌশলে রাতেও তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিল।
বিজিবির প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার ভোর ৫টায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন তাতে বাধা দেয়। এরপর থেকে শূন্যরেখার ভারতীয় ৫০ গজের মধ্যে ওই ১২ জন পাটখেতে বসে আছে।
সেখানেই তাদের রাত কেটেছে। শুক্রবার দুইবার পতাকা বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হলেও তাতে সাড়া দেয়নি বিএসএফ। আজ সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে আধা ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএসএফ দাবি করেন ওই ৩ পরিবারের বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষিরা ও খুলনা অঞ্চলে।
তবে এ বিষয়ে কোন প্রমাণ না থাকায় বিজিবি গ্রহণ করেনি। তখন বিএসএফ যাছাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে মিটিং শেষ করেন।
এদিকে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাদের সহায়তা করছে।
—জা.অর্থনীতি/এনজে
