সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জামিল মিয়া।

ভুক্তভোগী জামিল মিয়া সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটারী এলাকার মো. আশেক আলীর ছেলে। তিনি সুন্দরগঞ্জ পৌর বাজারের একজন জুতা ব্যবসায়ী।

অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মৃত বাবু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল গফুর (৫৫), তার ছেলে মো. কালাম মিয়া (২৮) এবং মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. আলামিন মিয়া (৩০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত শনিবার (১৩ জুন) গভীর রাতে পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে জামিল মিয়া, তার বাবা আশেক আলী, চাচা তছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই আব্দুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের জামিনসংক্রান্ত নথি থানায় উপস্থাপন করা হলে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

অভিযোগে বলা হয়, তাদেরকে আটকের পর ভোর ৪টার দিকে আব্দুল গফুর, কালাম মিয়া ও আলামিন মিয়ার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় হামলাকারীরা জামিল মিয়ার স্ত্রী মৌসুমী বেগমের হাত-পা বেঁধে রেখে ঘরে ভাঙচুর চালায়। তারা ঘরের টিনের বেড়া, টেলিভিশন, স্টিলের শোকেসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে স্টিলের বাক্সে থাকা নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময় হামলাকারীরা আব্দুল হকের বাড়িতেও প্রবেশ করে তার স্ত্রী মোসলেমা বেগমের হাত-পা বেঁধে রাখে। পরে ঘরে থাকা ভুট্টা বিক্রির ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া তছির উদ্দিনের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্রের ক্ষতি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

মো. জামিল মিয়া বলেন, ‘জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আমাদের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।’

এদিকে অভিযুক্ত মো. আব্দুল গফুর ও মো. আলামিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ আমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলমান। আমাদের বিরুদ্ধে যে বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং তারা নিজেরাই ঘটনা সাজিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ইকবাল পাশা বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

—জা. অর্থনীতি/এনজে