গাইবান্ধার রাধাগোবিন্দ কালী মন্দিরকে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে নেওয়ার দাবি
ছবি সংগৃহীত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (বৃন্দাবনপাড়া) এলাকায় গড়ে ওঠা শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির কমপ্লেক্স সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থাপত্যশৈলী, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং পর্যটন সম্ভাবনার কারণে মন্দিরটি ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশ-বিদেশের দর্শনার্থী এবং ধর্মপ্রাণ সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের আগমনও বেড়েছে।

তবে সম্প্রতি মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন বৃহৎ রামমূর্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন মহল এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে বিতর্ক ও মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ। 

এমন পরিস্থিতিতে পলাশবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা দাবি তুলেছেন, মন্দির কমপ্লেক্সটিকে সরকারিভাবে বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট-এর অধীনে নিয়ে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হোক।

তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলে মন্দিরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সম্পদের সুরক্ষা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় কার্যক্রমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি মন্দিরটিকে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় নিয়ে আসে, তাহলে তা হবে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। এর ফলে মন্দিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক প্রশমিত হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো অপশক্তি বা উসকানিমূলক গোষ্ঠী পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ পাবে না।

স্থানীয়দের মতে, পলাশবাড়ীর এই মন্দির শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি ইতোমধ্যে একটি ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্দিরটিকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় তীর্থস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিভাজনমূলক পরিস্থিতি সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত সংযম, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা। একই সঙ্গে প্রশাসনের উচিত প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে কোনো গোষ্ঠী ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে।

সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলে মন্দিরটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড আরও সুশৃঙ্খল হবে। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যও আরও শক্তিশালী হবে।

তাদের ভাষায়, সরকার যদি শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরকে বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে নিয়ে পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে তা শুধু সনাতন সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল মহলের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। 

পলাশবাড়ীর আলোচিত এই মন্দিরকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় জনগণ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।

—জা.অর্থনীতি/এনজে