জাবি প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘ প্রায় ১৩ ঘণ্টাব্যাপী সিন্ডিকেট সভা শেষে একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো, কয়েকজনের পদাবনতি ও বেতন অবনমন এবং কয়েকজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার (১৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার ভোর পৌনে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা শেষে এসব সিদ্ধান্ত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল আহমেদ রঙ্গন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও অধ্যাপক বশির আহমেদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজউদ্দিন শিকদার, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের বেতন নিম্নধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগামী পাঁচ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দুই বছর পর পদোন্নতির জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে প্রভাষক পদে এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। তারাও দুই বছর পর শর্তসাপেক্ষে পদোন্নতির আবেদন করতে পারবেন।
ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ মামুনকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড. এ মামুনকে পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে আইবিএ-জেইউর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষের ভূমিকা তদন্তে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কমিটি সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব ও সম্পৃক্ততা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সুপারিশ দেবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
