জাপান জাতীয় ফুটবল দল
ডাকনাম: সামুরাই ব্লু
কনফেডারেশন: এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)
কোচ: হাজিমে মোরিয়াসু
ফিফা র্যাংকিং: ১৮
কোয়ালিফিকেশন যাত্রা
অন্যতম দ্রুততম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়ান বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত এবং তারা বেশ আগেই টিকিট নিশ্চিত করে।
খেলার ধরন
সুশৃঙ্খল ডিফেন্স, ক্ষীপ্রগতির ট্রানজিশন এবং বল পজিশনের চেয়ে নিখুঁত কাউন্টার-অ্যাটাক। প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান কৌশল।
তারকা খেলোয়াড়
ওয়াতারু এন্দো (লিভারপুল), কাওরু মিতোমা (ব্রাইটন), তাকেফুসা কুবো (রিয়াল সোসিয়েদাদ) এবং রিটস দোয়ান (ফ্রাঙ্কফুর্ট)।
উদীয়মান খেলোয়াড়
জায়ন সুজুকি এবং কেইতো নাকামুরা।
কোচের কৌশল
প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গা বুঝে রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা বজায় রাখা এবং দ্রুতগতির কাউন্টার-অ্যাটাকে যাওয়া। প্রয়োজনে ফরমেশন বদলে খেলা।
শক্তি ও দুর্বলতা
শক্তির জায়গা হলো ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা একঝাঁক প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তবে শারীরিক শক্তিতে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেট-পিসে রক্ষণভাগ মাঝে মাঝে চাপে পড়ে যায়।
বিশ্বকাপ ইতিহাস
১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর থেকে জাপান প্রতিটি আসরেই নিয়মিত খেলছে। তাদের সেরা সাফল্য—২০০২, ২০১০ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পৌঁছানো।
স্মরণীয় মুহূর্ত
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জার্মানি এবং স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমকে দেওয়া।
সংস্কৃতি ও সমর্থক
জাপানি সমর্থকরা তাদের অসাধারণ নিয়মানুবর্তিতার জন্য বিখ্যাত। ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করা এবং স্টেডিয়ামে রঙ-বেরঙের ‘সামুরাই’ পোশাক পরে সমর্থন জোগানো তাদের সংস্কৃতির অংশ।
মজার তথ্য
ব্লু সামুরাইয়ের জার্সিতে গাঢ় নীল রঙটি প্রাচীন সামুরাইদের যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী ‘কাচি-ইরোজ’ (বিজয়ী রঙ) থেকে অনুপ্রাণিত।
সম্ভাব্য ফরমেশন: ৪-২-৩-১
গ্রুপ বিশ্লেষণ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জাপান গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো জায়ান্টদের মোকাবিলা করবে, যেখানে তিউনিসিয়াও রয়েছে।
ভবিষ্যদ্বাণী
গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে নকআউট পর্বে যাওয়ার জন্য তাদের লড়াই করতে হবে, তবে অঘটন ঘটানোর পূর্ণ সক্ষমতা এই স্কোয়াডের রয়েছে।
উক্তি
‘চলো বিশ্বকে এক নতুন জাপান দেখাই’