দেড় বছরেও প্রকাশ হয়নি সাদাপাথর লুটপাটে জড়িতদের নাম
ছবি সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ থেকে ব্যাপক পাথর লুটপাটের ঘটনার প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। আলোচিত এই ঘটনায় দফায় দফায় প্রশাসনিক রদবদল ও নানা আলোচনা হলেও কারা এই লুটপাটের মূল হোতা বা সুবিধাভোগী ছিলেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সাদাপাথর কাণ্ডের প্রতিবেদন কেন প্রকাশ করা হয়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনার কোনো প্রতিবেদন আমরা করিনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও কেবিনেটের সম্পৃক্ততায় এ বিষয়ে কাজ হয়েছে। এখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা কোনো প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি।'

তবে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের উদ্যোগে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-ও বিষয়টি নিয়ে মাঠে নামে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তখন জোর আলোচনা ছিল যে, দুদকের অনুসন্ধানে পাথর লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে দুদক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট লুটপাট ঠেকাতে ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগে সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে একযোগে বদলি করা হয়। একই দিনে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সারওয়ার আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেন। প্রশাসনের দাবি, সেসব অভিযানে লুট হয়ে যাওয়া কয়েক লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে সাদাপাথরে পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে পাথর উদ্ধার হলেও লুটেরা কারা ছিল, সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাদাপাথর, ভোলাগঞ্জ, জাফলং এবং রেলওয়ে বাঙ্কারসহ সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক হারে পাথর উত্তোলন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই লুটপাটের কারণে সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে, সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতিমধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অন্যতম আলোচিত এই প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার স্বার্থে দ্রুত তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি