কুবিতে গড় সিজিপিএতে শীর্ষে আইসিটি, সর্বনিম্ন অর্থনীতি বিভাগ
ফাইল ছবি

কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাম্প্রতিক বছরগুলোর স্নাতক ফলাফল বিশ্লেষণে বিভাগভিত্তিক গড় সিজিপিএতে শীর্ষে রয়েছে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগ। বিভাগটির শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯৪। অন্যদিকে গড় সিজিপিএ ২ দশমিক ৫৩ নিয়ে তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে অর্থনীতি বিভাগ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় ২ হাজার ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর সিজিপিএ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিভিন্ন অনুষদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩-এর উপরে। বিজ্ঞান অনুষদের ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩ দশমিক ০০ থেকে ৩ দশমিক ৬০-এর মধ্যে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩ দশমিক ১০ থেকে ৩ দশমিক ৫০, কলা অনুষদে ৩ দশমিক ০০ থেকে ৩ দশমিক ৩০, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৩ দশমিক ০০ থেকে ৩ দশমিক ৫০, প্রকৌশল অনুষদে ৩ দশমিক ০০ থেকে ৩ দশমিক ৬০ এবং আইন অনুষদে ৩ দশমিক ০০ থেকে ৩ দশমিক ৪০-এর মধ্যে রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৯৪। অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৫৩। ফলে বিভাগভেদে গড় সিজিপিএতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।

অনুষদভিত্তিক বিশ্লেষণেও প্রকৌশল অনুষদের গড় সিজিপিএ তুলনামূলকভাবে বেশি। বিপরীতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের গড় সিজিপিএ অপেক্ষাকৃত কম, যেখানে অর্থনীতি বিভাগের গড় ফলাফল অনুষদটির সামগ্রিক গড়কে প্রভাবিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ৩-এর বেশি সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করলেও বিভাগভেদে ফলাফলে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছে, অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের গড় ফলাফল তুলনামূলকভাবে কম।

এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আমাদের বিভাগে ৪-এর মধ্যে ৪ সিজিপিএ অর্জন করা সম্ভব। অনার্সে অনেক শিক্ষার্থী ৩ দশমিক ৯৪, ৩ দশমিক ৯৫ কিংবা ৩ দশমিক ৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে। আমাদের বিভাগে ল্যাবভিত্তিক ও গণিতনির্ভর কোর্স বেশি। কেউ যদি গণিতের অংশগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকে।”

অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব পারফরম্যান্স ও অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। বিভাগে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জনকারী যেমন রয়েছে, তেমনি প্রায় প্রতিটি ব্যাচেই ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ৩.৫০-এর বেশি সিজিপিএ অর্জন করে। ফলাফল তুলনামূলক কম হওয়ার জন্য বিষয়টিকে অতিরিক্ত কঠিন বলা ঠিক হবে না; বরং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ই এখানে মূল ভূমিকা রাখে। তবে গণিত, পরিসংখ্যান ও ইকোনোমেট্রিকসভিত্তিক কোর্সের কারণে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে ভীতি কাজ করে।”

এদিকে দ্বিতীয় সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন মোট ৫ হাজার ৫৮০ জন শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম থেকে সপ্তম ব্যাচ পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

সমাবর্তন স্থগিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “আমরা যাকে সমাবর্তনের অতিথি হিসেবে আনতে চেয়েছিলাম, শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সময়সূচি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই তৎকালীন উপাচার্য আপাতত সমাবর্তন স্থগিত করেছিলেন।”

দ্বিতীয় সমাবর্তন কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনই নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলা সম্ভব নয়। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

—জা. অর্থনীতি/এনজে