অবৈধ দোকানে মাঠ দখল, সংকটে খেলোয়াড়েরা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘বড় মাঠ’। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে হাঁটতে আসেন। মাঠকে ঘিরে রয়েছে ওয়াকওয়ে, একটি ফুটবল মাঠ এবং দুটি ক্রিকেট মাঠ। পাশাপাশি ভলিবল, কাবাডিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো এখানে। তবে মাঠের একাংশে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকানের কারণে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে এই ক্রীড়াঙ্গন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দোকানগুলোর কারণে মাঠে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা জমছে এবং দর্শনার্থীদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উন্মুক্ত মাঠটি তার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ভলিবল ও কাবাডি খেলার জায়গা। ক্রিকেটের একটি মাঠও কার্যত দখলে চলে যাওয়ায় অনুশীলনে চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় খেলোয়াড়রা।

সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় আব্দুস সালাম বাবলা বলেন, "এক সময় এই মাঠেই আমরা নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন করতাম। কিন্তু এখন মাঠের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। শতাধিক দোকান বসায় খেলাধুলার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে এসব অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা জরুরি।"

ক্রিকেট খেলোয়াড় সোহাগ আলী ও নাজমুস সাকিব জুন জানান, বড় মাঠে দুটি ক্রিকেট পিচ থাকলেও বর্তমানে একটি মাত্র পিচ ব্যবহার করা যাচ্ছে। অন্যটি অবৈধ দোকানের দখলে চলে গেছে। কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে অনুশীলনের আর কোনো জায়গা থাকে না। অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হলে মাঠে আবারও সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ক্রীড়া পরিবেশ ফিরে আসবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তাঁরা প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন, "মাঠের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দোকানিদের প্রথমে নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি