ছেলের চেয়ে মেয়ের বয়স বেশি? বিয়েটা টিকবে তো? আমাদের সমাজে কোনো পুরুষ নিজের চেয়ে বয়সে বড় নারীকে বিয়ে করতে চাইলে এমন হাজারো বাঁকা কথা আর কটূক্তি ধেয়ে আসে। যেন এটি কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় অপরাধ! কিন্তু আসলেই কি ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা আছে? নাকি এটি শুধুই আমাদের তৈরি এক অলিখিত কুসংস্কার? চলুন, আজ এই সামাজিক ট্যাবুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্যটা জেনে নেওয়া যাক।
ইসলামি শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো আইনি সীমা বা ফ্রেমিং বেঁধে দেওয়া হয়নি। কোরআন কিংবা সুন্নাহর কোথাও এমন নিয়ম নেই যে, স্ত্রীকে সবসময় স্বামীর চেয়ে বয়সে ছোট হতে হবে। ইসলাম মূলত বয়সকে নয়, বরং দাম্পত্যের মূল ভিত্তি হিসেবে ঈমান, দ্বীনদারিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানসিক বোঝাপড়া এবং সংসার পরিচালনার দায়িত্ববোধকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনই এই সামাজিক কুসংস্কারের সবচেয়ে বড় জবাব। তিনি যখন তাঁর প্রথম এবং অন্যতম প্রিয় স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.)-কে বিয়ে করেন, তখন নবিজি (সা.)-এর বয়স ছিল ২৫ বছর এবং বিবি খাদিজা (রা.)-এর বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর। এই ১৫ বছরের ব্যবধান তাঁদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বিন্দুমাত্র বাধা হয়নি। এছাড়া, রাসুল (সা.)-এর উৎসাহে তাঁর প্রিয় সাহাবি যায়েদ ইবনে হারিসা (রা.)-ও তাঁর চেয়ে বয়সে বড় উম্মে আয়মান (রা.)-কে বিয়ে করেছিলেন।
এমনকি সাহাবি জাবির (রা.) তাঁর ছোট বোনদের দেখভালের সুবিধার্থে একজন অভিজ্ঞ ও বয়সে বড় নারীকে বিয়ে করলে নবিজি (সা.) তাঁর এই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন।
আজকের আধুনিক যুগে এসে আমাদের মানসিকতা বদলানোর সময় এসেছে। দাম্পত্য জীবনের সফলতা কোনো সংখ্যার অঙ্কে মাপা যায় না। দুটি মানুষের মধ্যে যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানসিক মিল ও আল্লাহভীতি থাকে, তবে বয়সের ব্যবধান কখনোই বাধা হতে পারে না। তাই সামাজিক কুসংস্কার নয়, কোরআন ও সুন্নাহর উদার ও বাস্তবমুখী শিক্ষাই হোক আমাদের পথ চলার প্রেরণা।
জা. অর্থনীতি/ উমার