ধর্ষণ ঢাকতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে নির্যাতিত এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনগত রাতে আদিতমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতিত ওই তরুণীর বাবা। মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীরা হলেন— উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটালী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান ফুলতলা (৪০) এবং তার প্রতিবেশী দুই সহযোগী নারী সুমি বেগম ও নছিমন বেগম।

মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে— গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী সপ্তম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশে একটি লিচু বাগানে নিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মোখলেছার রহমান। বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেওয়ায় রক্তাক্ত স্কুলছাত্রী ভয়ে ঘটনাটি গোপন রাখে। পরে গত ১ জুলাই নতুন পোশাকের লোভ দেখিয়ে সহযোগী দুই নারীর সহায়তায় মেয়েটিকে ডেকে নেয় মোখলেছার। এরপর তাকে প্রথমে রংপুর ও পরে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ঢাকার গাজীপুরে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে মোখলেছার তাকে পুনরায় ধর্ষণ করলে স্কুলছাত্রী চিৎকার দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বাইরে ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা নেয়। স্থানীয়রা লম্পট মোখলেছারকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় এবং মেয়েটির পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ঘটনার পর অসুস্থ স্কুলছাত্রীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে ঘটনা আড়াল করতেই আসামিরা তাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়েছিল। আমি গরিব মানুষ, থানায় মামলা করেছি। এখন আসামিদের লোকজনের হুমকিতে আমাদের জীবন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।” স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত মোখলেছারের ভাই মহুবর রহমান স্থানীয় ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ হওয়ায়, তার প্রভাব খাটিয়ে এই মামলাটি নষ্ট করার জোর চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, “অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। বুধবার (৮ জুলাই) ভিক্টিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত মোখলেছারসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

—জা. অর্থনীতি/এলএটি