আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় হাওরাঞ্চল ও গোয়ালী নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীভাঙন তীব্র হওয়ার পাশাপাশি হাওরপাড়ের বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলে। উত্তোলিত বালু বাল্কহেডে করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি ও মৎস্য খাতনির্ভর। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ছাতিরচর ও সিংপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
এদিকে নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন পুকুর, খাল ও জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে সদর ইউনিয়নে একাধিক পুকুর প্রকাশ্যে ভরাট করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে জারইতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সম্প্রতি গভীর রাতে সরেজমিনে গিয়ে নদীতে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম এবং বাল্কহেডে করে বালু পরিবহনের দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় গোয়ালী নদীর ইজারাদার ইয়াসিনকেও ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “দিনের বেলায় বাল্কহেডগুলো সাধারণ নৌকার মতো ঘাটে থাকে। সন্ধ্যার পর সেগুলো নদীতে নেমে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তোলে। মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও আগেই খবর পৌঁছে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায় না।”
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোয়ালী নদীর ইজারাদার ইয়াসিনের নেতৃত্বে এই বালু উত্তোলন চলছে।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে ইয়াসিন অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি বালু উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তবে প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করার যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শহিদুল ইসলামের জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
—জা. অর্থনীতি/এনজে