সিলেট প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ এটিএম তুরাব আমাদের সকলের প্রেরণার উৎস। এ হত্যার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। তুরাব হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন। পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও ‘এটিএম তুরাব পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হুমায়ুন কবির আরও বলেন, "জুলাই আন্দোলনে প্রায় দেড় হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ এই জায়গায় এসেছি। শহীদ তুরাবের রক্ত সিলেটের মাটিতে ঝরেছে। এই বিচার কেন বিলম্বিত হচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলব, যাতে তুরাবসহ সব জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া যায়।"
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তুরাব শহীদ হয়েছেন। গত ১৫ বছর অপতথ্যের মাধ্যমে দেশকে তথ্য সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং বিগত নির্বাচনের পর দেশে মিডিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ভেদাভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সকলকে এক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, "তুরাবের লাশ ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টার সাক্ষী আমরা নিজেই। এমনকি সেই সময় মামলায় আমাদের লোকজনকেও আসামি করা হয়েছিল, যা ছিল চরম নির্মম বাস্তবতা।" জুলাই বিপ্লবে তুরাব ও গোলাপগঞ্জের ৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের সাথে আলোচনা করেছেন জানিয়ে বলেন, "আমরা প্রতিশোধপরায়ণ হতে চাই না, তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়েই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।"
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) তার বক্তব্যে তুরাব হত্যার তদন্ত প্রক্রিয়া যেন ‘সাগর-রুনি’ হত্যাকাণ্ডের মতো হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এখন আর প্রতিবাদ নয়, আমরা খুনিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।"
মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই তুরাব জীবন দিয়েছেন। তবে মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এই সরকার কোনো অন্যায়কে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, রাজনীতির কারণে আর কোনো মানুষের রক্ত ঝরুক—এমনটা আমরা কেউ চাই না।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদারের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি