চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন
প্রতীকী ছবি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: চকলেট, বিস্কুট খাওয়ার প্রয়োজন দেখিয়ে ১০ বছরের এক শিশুকে তিনদিন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে শিশুর উপর যৌণ নিপীড়নের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত সাইদুল পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, কলাপাড়ার নাচনাপাড়া এলাকার আলম সরদারের জামাই সাইদুল। শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে এসে গত তিনদিন ধরে সন্ধ্যার পর তাকে নিয়ে ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল।  শিশুটিকে বিস্কুট ও চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে  এলাকার একটি বাড়ির পেছনে নিয়ে যৌণ নিপীড়ন করে। এরপর শিশুটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে ঘটনা কাউকে জানাতে নিষেধ করে। মেয়ের হাতে টাকা ও খাবার দেখে শিশুর মা তাকে টাকা কোথায় পেয়েছে জানতে চাইলে ভয়ে মাকে ঘটনা বলেনি। একদিন পর আবার তার হাতে টাকা ও চিপস দেখে চাপ দিলে শিশুটি তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। এ ঘটনায় তারা অভিযুক্তর শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় এলাকায় মানুষ অভিযুক্তর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান।

শিশুটি জানায়,তাকে ডেকে নিয়ে তার সাথে খারাপ কাজ করেছে। একথা কাউকে না বলতে ২০ টাকা দেয় সাইদুল।ভয়ে মাকে এ কথা বলেনি সে।

শিশুর মা বলেন, ওর বাবার ভয়ে তাকেও এ ঘটনা প্রথমে জানাননি। কিন্তু বারবার একই ঘটনা ঘটায় এলাকার লোকজনও বিষয় টি জেনে যায়। তিনি এ ঘটনায় রোববার (২৬ জুলাই) মধ্যরাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাইদুল খান পলাতক রয়েছে। সাইদুলের শাস্তির দাবি জানান। 

আর অভিযুক্তের শ্বাশুড়ি বলেন, তারা এ বিষয়টি জানতেন না।  তবে তার জামাই এ ঘটনায় জড়িত না। 

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাপাড়া থানার উপ পরিদর্শক মতো. ফোরকান বলেন, তারা তথ্য সংগ্রহ ও ভিকটিম এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছেন। শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।  উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

ওসি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। শিশুটিকে পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি