‘ইসলামী ব্যাংক এখন স্থিতিশীল অবস্থায়, শিগগিরই পুনর্গঠিত পর্ষদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও এর সঙ্গে সরাসরি গ্রাহকসেবার কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষই মূলত দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম কখনোই স্থবির হয়ে যায়নি। সাময়িকভাবে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটি কিছুটা তারল্য সংকটে পড়েছিল। তবে সেই পরিস্থিতি এখন কেটে গেছে। ব্যাংকটি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এরই মধ্যে যে আমানত ক্ষয় হয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশও পুনরায় ফিরে আসছে। এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদ গঠনের কাজ কেন্দ্রীয় ব্যাংক করছে। যথাসময়ে যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পুনর্গঠিত পর্ষদ দেখতে পাওয়া যাবে। ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সব স্টেকহোল্ডারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক এই মুহূর্তে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অচিরেই যোগ্য সদস্যদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে। এরপর ব্যাংকটি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।’

তবে পর্ষদ গঠনের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই ঘোষণা করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি কারিগরি ও যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়। সম্ভাব্য কোনো পরিচালকের নাম প্রস্তাব করার পর তার বিরুদ্ধে সমাজের কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পর্ষদ গঠনের পর যদি কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে আবার কোনো ধরনের অসন্তোষ বা আপত্তি তৈরি হয় এবং সেই কারণে পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। তাই এবার একটি পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য পর্ষদ গঠনের লক্ষ্যে সবকিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে। তবে ঠিক কবে নতুন পর্ষদ ঘোষণা করা হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ